টানা হ্রাস পেয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তামার মোট সরবরাহ নেমে আসতে পারে চাহিদার তুলনায় ৩০ শতাংশ কম পর্যায়ে। চাহিদার তুলনায় তামার সরবরাহ ব্যাপক মাত্রায় কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের নবায়নযোগ্য রূপান্তরের পথে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। কারণ তামা হলো এমন একটি ধাতু যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সোলার প্যানেল ও উইন্ড টারবাইনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন তামার খনি আবিষ্কার থেকে শুরু করে উৎপাদনে যেতে গড়ে ১৭ বছর সময় লাগে। এতে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই আগামী এক দশকের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের তামার সংকট দেখা দিতে পারে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল বলেন, ‘এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। এখনই সতর্ক হওয়া দরকার। সংকট এড়াতে উন্নত দেশগুলোকে আরো বেশি তামা পরিশোধন ও উন্নয়নশীলদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পরিশোধনের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব। যদিও আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় এসব খনিজ উত্তোলন করা হয়, কিন্তু এর ৭০ শতাংশের বেশি পরিশোধন করা হয় চীনে। এ নির্ভরতা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিরল বলেন, ‘এখন সবচেয়ে দরকার বৈচিত্র্য আনা। প্রযুক্তি আছে, খনিজও আছে—দরকার শুধু একসঙ্গে কাজ করা।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোকে উন্নয়নশীলদের সঙ্গে যৌথভাবে খনিজ খাতের উন্নয়ন ঘটাতে আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘বাজারের স্বাভাবিক নিয়ম এ সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ, খনিজ পুনর্ব্যবহার ও সরকারি সহায়তা ছাড়া ভবিষ্যতে বড় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর সময় যেমন খনিজ সংকটে দাম বেড়ে গিয়েছিল, ঠিক তেমন পরিস্থিতি আবার সৃষ্টি হতে পারে। এতে ব্যাটারির মতো পণ্যের দাম ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির খরচও বাড়িয়ে দেবে।
এছাড়া চীনে গ্রিন টেকনোলজি উৎপাদন ও বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণে তামার চাহিদা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি লিথিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদাও বাড়ছে।
ফাতিহ বিরল বলেন, ‘এখনই ব্যবস্থা নেয়া গেলে এ সংকট এড়ানো সম্ভব। নতুন খনি প্রকল্প চালু, তামা পুনর্ব্যবহার ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো বিকল্প ধাতু ব্যবহার করলে সমস্যা অনেকটাই কমানো যাবে। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে আগামী দিনে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।